লিভারপুলের প্রধান কোচ ইরাওলা ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ৩১ বছর বয়সে প্রায় অলরেডদের দলে যোগ দেওয়ার পুরোনো ঘটনা নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হন।

৩১ বছর বয়সে প্রায় লিভারপুলে যোগ দেওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে
“কোচিং ক্যারিয়ারের এত শুরুর দিকেই গল্পটি আপনাকে বলতে চাই কি না, জানি না। আগে কিছু ম্যাচ জিততে চাই। হ্যাঁ, এটি ভালো একটি গল্প; তবে কয়েক মাস পরও মনে থাকলে আবার আমাকে জিজ্ঞেস করতে পারেন।”
গল্পটির সংক্ষিপ্ত রূপ মোটামুটি এমন: ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে লিভারপুল ইরাওলাকে দলে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। তখন লিভারপুলের স্পেন ও পর্তুগাল অঞ্চলের স্কাউটিং ব্যবস্থাপক ওয়ার্ড, তৎকালীন টেকনিক্যাল ডিরেক্টর এডওয়ার্ডসের নির্দেশে অ্যাথলেটিক বিলবাও ও মালাগার একটি ম্যাচ দেখতে গিয়েছিলেন।
ইরাওলার নেতৃত্বগুণ, মার্জিত খেলার ধরন ও দীর্ঘ সময় ধরে খেলার সক্ষমতায় লিভারপুল মুগ্ধ হয়েছিল। তখন তাঁর বয়স ছিল ৩১ বছর এবং অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাকি ছিল ৬ মাস। অলরেডদের ধারণা ছিল, রজার্সের অধীনে থাকা তরুণ একটি দলকে গড়ে তুলতেও তিনি সাহায্য করতে পারবেন।
দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছিল, কিন্তু ইরাওলা অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ে থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় লিভারপুল হতাশ হয়। এরপর আসে মোড়। অস্বাভাবিকভাবে ইরাওলা নিজেই জবাবি চিঠি লিখে তাঁকে দলে নেওয়ার চেষ্টায় ব্যয় করা সময়ের জন্য লিভারপুলকে ধন্যবাদ জানান এবং কেন চুক্তির মেয়াদ আরও ১২ মাস বাড়িয়েছেন, তা ব্যাখ্যা করেন। ফুটবলে এমন ঘটনা খুব একটা দেখা যায় না এবং লিভারপুল তাঁর সেই নিখুঁত সৌজন্য কখনো ভোলেনি।
এর আগে স্ত্রীর সঙ্গে লিভারপুলে আসা প্রসঙ্গে
“প্রথমবার আসার কথা আমার মনে আছে। সম্ভবত তখন বড়দিনের বাজারও শুরু হয়ে গিয়েছিল, তাই সময়টা হয়তো নভেম্বর মাসের আন্তর্জাতিক বিরতির মধ্যে ছিল। তখনও আমাদের সন্তান হয়নি, ফলে ঘটনাটি অনেক বছর আগের। তবে স্ত্রীর সঙ্গে আমি দারুণ কিছু সময় কাটিয়েছিলাম।”
দল নিয়ে লিভারপুল সমর্থকদের উচ্চ প্রত্যাশা প্রসঙ্গে
“প্রথম কাজ হলো ভালো ফুটবল খেলার চেষ্টা করা—এটিই আপনাকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে। তবে বিষয়টি শুধু ভালো খেলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ভালো খেলা সহায়ক, কিন্তু আমার মতে, সমর্থকেরা মাঠে যা দেখেন, তার সঙ্গে তাঁদের একাত্মতা তৈরি হওয়া দরকার।”
“কখনো কখনো বিষয়টি শুধু বল জালের কোণে পাঠানো নয়। অনেক সময় যারা ম্যাচ দেখেন, তাঁরা নিজেরা এসব করতে পারেন না; কিন্তু খেলোয়াড়েরা দৌড়াতে, ট্যাকল করতে, প্রেস করতে এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করতে পারেন।”
“নিজেদের দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে এসব দেখলে সমর্থকদের পক্ষে দলটির পাশে দাঁড়ানো সহজ হয়। আমি আমার দলকে তাঁদের জন্য এসব উজাড় করে দিতে উৎসাহিত করব। আমাদের দেওয়ার মতো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হলো মাঠের পারফরম্যান্স।”
“আমি ভালোভাবে কথা বললাম কি না বা আমার কথা ঠিক কি না, তাতে কিছু যায় আসে না। শেষ পর্যন্ত মানুষ শুধু দলকে ভালো খেলতে ও ভালো ফল করতে দেখতে চায়। আমি জানি, এটিই আমার কাজের ৯০%।”
প্রধান কোচ ও খেলোয়াড়দের ভূমিকা এবং বিভিন্ন লিগের পার্থক্য প্রসঙ্গে
“একেবারে শুরুর দিকেও, ইংল্যান্ডে সদ্য আসার পর প্রথম ২ বা ৩টি ম্যাচের কথা মনে আছে—ম্যাচ শেষে আমি খেলোয়াড়দের সঙ্গে ক্লাব ও সমর্থকদের দিকে এগিয়ে যাইনি। স্পেনে মানুষ হয়তো মনে করবে, আপনি এমন করলে নিজেকেই মুখ্য চরিত্র করে তুলছেন। সাধারণত আমরা খেলোয়াড়দের সামনে যেতে দিই, কারণ তাঁরাই ম্যাচ খেলেন। আমরা সাধারণত একটু পেছনে থাকি।”
“কিন্তু এখানে প্রধান কোচেরা সাধারণত এটি করেন। প্রথম ম্যাচ থেকে আমিও প্রতি ম্যাচে তা করছি। এটি সাংস্কৃতিক পার্থক্য। নতুন কোনো লিগে এলে আপনাকে শিখতে হয়। এখন আর আগের পরিস্থিতি নেই। আমি সব সময় বলি, আমরা খেলোয়াড়দের সহকারী।”
“তাঁরাই মূল অংশ। তাঁদের সাহায্য করাই আমাদের প্রধান কাজ। কেবল তাঁরাই আমাদের সাফল্য এনে দিতে পারেন। আমরা তাঁদের মতো গুরুত্বপূর্ণ নই। আমার কাছে বিষয়টি একেবারেই পরিষ্কার।”
সামনের কাজ প্রসঙ্গে
“আমাদের কিছুটা সময় দরকার এবং কিছু ম্যাচ জিততে হবে। আমার কাছে মূল বিষয় হলো অত্যন্ত ভালো ও হারানো কঠিন একটি দল তৈরি করা। আমি এখন যে দলটির কল্পনা করি, যেটিকে দেখি ও ভাবি—আমরা যদি সেই দল হয়ে উঠতে পারি, তাহলে আমার বিশ্বাস, সফল হব।”
“তবে এখন সেই দল, দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ও অর্জন নিয়ে আমার কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ নয়। শেষ পর্যন্ত কাজটি ভালোভাবে করতেই হবে। দলকে উন্নত করতে হবে, প্রত্যেক খেলোয়াড়ের সেরা অবস্থান এবং দলের সেরা সমন্বয় খুঁজে বের করতে হবে—আমরা সেটিই করার চেষ্টা করব।”
